জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সেদিন বাঙালীদের স্বাধীনতার জন্য উজ্জীবিত করেছিল। রমনার রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে তাঁর সেই ভাষণ আজও অমর বাণী হয়ে আছে। তাঁর সেই ভাষণ পরবর্তিতে রাজনৈতিক ও গবেষণার উপাদানে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের প্রশংসা করেছেন ঢাকায় তৎকালীন পাক বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিক। খবর বাসসর।
মেজর সালিক তাঁর 'উইটনেস টু সারেন্ডার' বইতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের অকপটে প্রশংসা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আগে ঢাকা গুজব, আতঙ্ক ও শঙ্কার নগরীতে পরিণত হয়েছিল। সে সময় পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দফতর থেকে এ ধরনের বক্তব্য ঢাকা রেডিও স্টেশন থেকে প্রচার না করার নির্দেশ দেয়া হয়। মেজর বলেন, আমি নিজেই সেই বার্তা নিয়ে রেডিওতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই সময় রেডিওতে দায়িত্ব পালনরত বাঙালী বন্ধু আমাকে জানান, সাড়ে সাত কোটি মানুষের মনের কথা যদি প্রচার করতে না পারি তাহলে আমি চাকরি করতে চাই না। এরপর তিনি রেডিওর সম্প্রচার বন্ধ করে দেন।
মেজর সিদ্দিক সালিক বলেন, বঙ্গবন্ধু সেই কালজয়ী ভাষণ দেয়ার জন্য ওই দিন বিকেলে ডায়াসে উঠে জনসমুদ্রের চারদিকে একবার তাকালেন। তারপর শুরু করলেন তাঁর সেই অগ্নিঝরা ভাষণ। তিনি এককভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। কিন্তু তিনি ২৫ মার্চে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য চারটি পূর্বশর্ত আরোপ করলেন। তা হলো সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে, জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং যেসব বাঙালীকে হত্যা করা হয়েছে সেব্যাপারে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তাঁর সেদিনের বক্তব্য শুনতে যারা জড়ো হয়েছিল, বক্তব্য শোনার পর তাদের মনে হয়েছে যেন কোন মসজিদ বা গির্জা থেকে ধর্মীয় কোন সমাবেশ শেষে তাঁরা স্বন্তিতে বাড়ি ফিরছেন।
বঙ্গবন্ধু সেদিন জনতাকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে ক্যান্টনমেন্টমুখী না করে যেভাবে রক্তপাত এড়িয়েছিলেন, মেজর সিদ্দিক সালিক তাঁর সেই প্রজ্ঞার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
সমকাল (১৩ আগস্ট ২০০৮) পত্রিকায় বিভিন্ন গোপন দলিলে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে অজয় দাশগুপ্তের একটি মূল্যবান লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা...
-
উনিশ শ' একাত্তরের মার্চের এই দিনে স্বাধিকার চেতনায় শাণিত আন্দোলনমুখর ছিল বাঙালী জাতি। বাংলাদেশ তখন বিদ্রোহ-বিক্ষোভে টালমাটাল, বীর বাঙালী...
-
সংগ্রহ করা হয়েছে সামহোয়ারইনব্লগ থেকে। লিখেছেন: রাশেদ নিচের লেখাটি Century of Genocide: Eyewitness Accounts and Critical Views By Samuel Tot...
-
আবদুল কাদের মোল্লা থাকেন রাজধানীর বড় মগবাজারের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে গ্রিনভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টে। তাঁর বিরুদ্ধে একাত্তর...
-
উনিশ শ' একাত্তর সালের ৬ মার্চেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে ছিল হরতাল। সকাল ছ'টা থেকে দুপুর দু'টা পর্যন্ত। পাকিসত্মানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ...
-
আজ ১০ মার্চ। ১৯৭১ সালের আরও একটি উত্তাল দিন। অগ্নিগর্ভ বিক্ষুব্ধ বাংলায় বিদ্রোহ-বিক্ষোভের তরঙ্গ প্রবহমান ছিল টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। ...
-
আজ ৯ মার্চ। ১৯৭১-এর উত্তাল-অগ্নিগর্ভ দিনগুলোর একটি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকে দেশ তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে থাকে। এই দিনে মিছিলে...
-
একাত্তরের এই দিনে ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল এক বিক্ষুব্ধ জনপদে। এদিন ওড়ানো হয়েছিল মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা। এর আ...
-
পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে শহীদ হন ১৫৪ বাঙালি সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ৩১ আগষ্ট সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজে...
-
একাত্তরে বিতর্কিত ভূমিকা ও যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে তারা এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের টি...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন